Sunday, 19 January 2025

ওজন কমাতে যে সাতটি ভুল থেকে সতর্ক থাকতে হবে

 


ওজন কমাতে উদ্যোগ নিয়েও শেষ পর্যন্ত উদ্যম বজায় রাখাটাই মুশকিল হয়ে পড়ে। ‘টুকিটাকি’ কিছু ভুলে নিজের কাঙ্ক্ষিত ওজনে পৌঁছানো দুরূহ হয়ে ওঠে। কেউ নাশতা বাদ দেওয়ার ভুল করেন, তো কেউ আবার ‘অবাস্তব’ লক্ষ্য নির্ধারণ করে বসেন। নিতান্তই ‘সাদামাটা’ এমন কিছু বিষয় সম্পর্কে জেনে রাখা প্রয়োজন, যেগুলোর কারণে আপনি ওজন নিয়ন্ত্রণে ব্যর্থ হতে পারেন।

ওজন কমানোর অর্থ কেবল কিছু খাবার বাদ দেওয়া আর জিমে সময় কাটানোই নয়; বরং পুরো জীবনধারাতেই আপনাকে সঠিক পরিকল্পনা নিতে হবে।

সময়মতো খেতে হবে, ঘাম ঝরাতে হবে, আবার ঘুমাতেও হবে। ওজন নিয়ন্ত্রণের ‘সাধারণ’ কিছু ভুল সম্পর্কে জানালেন রাজধানীর স্কয়ার হাসপাতাল লিমিটেডের মেডিসিন বিভাগের কনসালট্যান্ট ডা. তাসনোভা মাহিন।


সকালের খাবার বাদ দেওয়া

সকালের খাবার থেকেই সারা দিনের জন্য প্রয়োজনীয় ক্যালরির একটা বড় অংশ গ্রহণ করা উচিত। সকালে না খেলে আপনি সারা দিনের কাজের উদ্যম পাবেন না। শরীরচর্চা করতে গিয়েও ক্লান্তি বোধ করবেন। অ্যাসিডিটির সমস্যায়ও ভুগবেন।

সকালে খাবার না খেয়ে বেলা বাড়ার পর এক-দুটি শিঙাড়া-পুরি কিংবা মেয়োনিজ-মাখন দেওয়া কোনো খাবার খেয়ে নেওয়াটা মোটেও স্বাস্থ্যকর অভ্যাস নয়। এতেও ওজন বাড়ে।


তিন বেলা খাবার মাঝে ‘স্ন্যাকস’ না খাওয়া

সকাল, দুপুর ও রাত তিনবেলা হয়তো ঠিকঠাক খাবার খেলেন। তবু মাঝের সময়টায় ‘স্ন্যাকস’ না খেলে ক্ষুধার তাড়নায় কষ্ট পাবেন আপনি। ওজন কমানোটাকে অত্যন্ত কষ্টকর এক বিষয় বলে মনে হবে। আর ওজন কমাতে দীর্ঘ মেয়াদে সাফল্যও পাওয়ার সম্ভাবনাও কমে যাবে।


‘স্ন্যাকস’-এর ক্যালরির হিসাব না রাখা

স্ন্যাকস হিসেবে গ্রহণ করা ‘হালকা’ খাবার যাতে ক্যালরির দিক থেকেও ‘হালকা’ হয়, সেদিকে খেয়াল রাখতে হবে। উচ্চ ক্যালরিসম্পন্ন ‘সহজ’ নাশতা, যা হাতের কাছের দোকানেই পাওয়া যায়, তা অবশ্যই এড়িয়ে চলুন; বরং স্ন্যাকস হিসেবে আপনাকে স্বাস্থ্যকর কিছু খেতে হবে। ফলমূল, কাঁচা সবজির সালাদ, বাদাম প্রভৃতি বেছে নিতে পারেন।


মেয়োনিজ, কেচাপ বা সস গ্রহণ

ধরা যাক, আপনি বাড়িতে স্যান্ডউইচ বানিয়েছেন, যাতে ক্যালরির মাত্রা খুব বেশি নয়। কিন্তু এটিকে সুস্বাদু করে তুলতে সঙ্গে যদি কেচাপ বা সস–জাতীয় কোনো কিছু গ্রহণ করেন, তাহলে কিন্তু মুশকিল। এভাবেও বাড়তি ক্যালরি যুক্ত হয়ে যেতে পারে আপনার খাবারে। সালাদ তৈরির সময় মেয়োনিজ ব্যবহার করলেও ঘটে একই ব্যাপার। এ বিষয়গুলো এড়িয়ে চলতে হবে।


ভুল লক্ষ্য নির্ধারণ

খুব বড় লক্ষ্য নির্ধারণ করবেন না; বরং সপ্তাহে আধা কেজি ওজন কমানোর লক্ষ্যে শুরু করতে পারেন ওজন কমানোর ‘মিশন’; বড়জোর এক কেজি। কতটা ওজন কমাতে চান, তা যেমন একধরনের লক্ষ্য, তেমনি ওজন কমাতে আপনি কোন কোন কাজ করতে চান, তা আরেক ধরনের লক্ষ্য। ধরা যাক, আপনি চায়ে চিনি খাওয়ার অভ্যাস ধীরে ধীরে ছেড়ে দেবেন কিংবা রোজ ৩০ মিনিট খেলাধুলা করবেন বলে ঠিক করলেন।

এই লক্ষ্যগুলোও বাস্তবসম্মত রাখুন, অর্থাৎ নির্দিষ্ট সময়ে আপনার পক্ষে যতটা বদলানো সম্ভব। সপ্তাহ শেষে, মাস শেষে হিসাব করে দেখুন, এসব লক্ষ্যের কতটা পূরণ করতে পারলেন। সব সময় যে ওজনের লক্ষ্যে আপনি চাইলেই পৌঁছাতে পারবেন, তেমনটা কিন্তু নয়। তবে স্বাস্থ্যকর জীবনধারার লক্ষ্যে পৌঁছানো জরুরি। তাতে ধীরে ধীরে ওজনও কমবে।

শুরুতেই খুব বেশি ওজন কমানো

ওজন কমানোর শুরুর দিকেই অতি উৎসাহে অনেকটা ওজন কমিয়ে ফেলা ঠিক নয়। হঠাৎ অনেকটা ওজন কমাতে গিয়ে আপনি যদি ক্যালরি গ্রহণের মাত্রা অতিরিক্ত কমিয়ে দেন, তাহলে দেহের বিপাক হার কমে যেতে পারে। পরে স্বাভাবিক ক্যালরি গ্রহণ করলেও আপনার ওজন বাড়তে পারে এই ধীর বিপাক হারের জন্য।


ভুল সময়ে ওজন মাপা

ঘন ঘন ওজন মাপতে নেই। ওজন মাপবেন সপ্তাহে বড়জোর একবার। তবে দিনের বিভিন্ন সময় কিন্তু আমাদের ওজনের তারতম্য হয়। তাই এক দিন সকালে মাপলেন, তো আরেক দিন রাতে কিংবা এক দিন খাওয়ার আগে, তো এক দিন খাওয়ার পরে এমনটা করা যাবে না।

তাতে নিজের ওজন সম্পর্কে ভুল ধারণা পাবেন। সপ্তাহের একটা নির্দিষ্ট দিনে, নির্দিষ্ট সময়ে ওজন মাপা ভালো।




Monday, 6 January 2025

কাঁচকলার চিপস

 

‘‘কাঁচকলার চিপস’’


চিপস খাওয়ার জন্য বায়না করে না, এমন বাচ্চা খুঁজে পাওয়া মুশকিল! বাইরে থেকে কেনা চিপস কতোটা স্বাস্থ্যসম্মত, সেটা নিয়ে সব মায়েরাই চিন্তায় পরে যায়। কিন্তু বাসায়ই পুষ্টিকর উপকরণ দিয়ে খুব সহজে মুচমুচে চিপস বানিয়ে নেওয়া যায়। কাঁচকলা এমন একটি সবজি, যা সহজলভ্য এবং শরীরের জন্য অনেক বেশী উপকারি। মুচমুচে কাঁচকলার চিপস খেতে বেশ ভালোই লাগে! পরিবারের সবার স্বাস্থ্যের দিকটাও তো চিন্তা করতে হবে, তাই না? বিকালের নাশতায় কী ধরনের হেলদি স্ন্যাকস তৈরি করা যায়, এটা নিয়ে অনেকেই কনফিউশনে থাকেন। আজ এমনই একটি মজাদার স্ন্যাকসের রেসিপি শেয়ার করবো যেটা অল্প সময়ে ঝামেলাবিহীন উপায়ে বানিয়ে নেওয়া যায়। তাহলে দেরি না করে কাঁচকলার চিপস বানানোর রেসিপিটি জেনে নিন!

কাঁচকলার চিপস তৈরির পদ্ধতি

উপকরণ

  • কাঁচকলা- ২টি
  • লবণ- স্বাদ অনুযায়ী
  • হলুদ গুঁড়ো- ১/২ চা চামচ
  • লালমরিচের গুঁড়ো- ১/২ চা চামচ
  • বেসন- ১/২ কাপ
  • কর্ন ফ্লাওয়ার- ২ চা চামচ
  • জিরা গুঁড়ো- ১/২ চা চামচ
  • গোলমরিচের গুঁড়ো- সামান্য
  • তেল– ভাজার জন্য

প্রস্তুত প্রণালী

১) প্রথমে কাঁচকলাগুলো পাতলা পাতলা স্লাইসে গোল করে কেটে নিন। কাটার সাথে সাথে লবণ ও হলুদ দিয়ে মাখিয়ে রাখুন। এভাবে মাখিয়ে না রাখলে খুব দ্রুতই কাঁচকলা কালো হয়ে যায়!

২) এবার একটি পাত্রে হলুদ গুঁড়ো, লালমরিচের গুঁড়ো, জিরা গুঁড়ো ও কর্ন ফ্লাওয়ার ভালোভাবে মিশিয়ে নিন।

৩) সামান্য একটু পানি দিয়ে বেসন গুলিয়ে নিন এবং এটি ঐ মসলার মিশ্রণে ঢেলে দিন। সামান্য লবণ দিয়ে সব উপকরণগুলো মিক্স করে ফেলুন।

৪) তারপর গোল গোল করে কেটে রাখা কাঁচকলাগুলো এই মিশ্রণে দিয়ে দিন এবং ভালোভাবে কোটিং করে নিন। অর্থাৎ কাঁচকলার সাথে যাতে মসলাগুলো ভালো করে লাগে সেদিকে খেয়াল রাখুন।

৫) অন্যদিকে তেল গরম করতে দিন। অনেকে তেলে না ভেজে ওভেনে বেক করে নেন। ওভেন না থাকলে ডুবো তেলে মুচমুচে করে ভেজে নিতে হবে।

৬) গরম তেলে একে একে কাঁচকলার চিপসগুলো দিয়ে দিন এবং বাদামি রং না আসা পর্যন্ত ভাজতে থাকুন।

৭) ভাজা হয়ে গেলে চিপসগুলো কিচেন টিস্যুতে তুলে রাখুন যাতে এক্সট্রা তেল শুষে নেয়। এবার উপর থেকে সামান্য গোলমরিচের গুঁড়ো ছিটিয়ে দিন।

ব্যস, কাঁচকলার চিপস তৈরি হয়ে গেলো! রেসিপিটা খুব সহজ না? বিকালে চায়ের আড্ডাতে কিংবা বাচ্চাদের নাস্তার মেন্যুতে এই আইটেমটি রাখতে পারেন। ছোটবড় সকলেই কিন্তু বেশ মজা করেই খাবে! তাহলে হাতের কাছে উপকরণগুলো থাকলে আজই বানিয়ে নিন কাঁচকলার চিপস।




Saturday, 4 January 2025

মুচমুচে আলুর চিপস বাসাতেই বানিয়ে নিন মাত্র ২০ মিনিটে!

 

‘‘মুচমুচে আলুর চিপস বাসাতেই বানিয়ে নিন মাত্র ২০ মিনিটে!’’


পটেটো চিপস আমাদের সবারই খুব পছন্দের। বাইরে থেকে সবসময় কিনে না খেয়ে অল্প উপকরণ দিয়ে বাসাতেই বানানো যায় মুচমুচে আলুর চিপস! আর বাচ্চারা তো চিপস খাওয়ার জন্য বায়না করেই, তাই না? স্ন্যাকস হিসাবে এটি বানিয়ে দিতে পারেন খুব কম সময়ে! অনেকে রোদে শুকিয়ে আলুর চিপস তৈরি করেন, পরে সেটা ভেজে নেন। এতে সময় বেশি লাগে, আবার সবার জন্য রোদে শুকিয়ে নেওয়ার অপশনও থাকে না। মুচমুচে আলুর চিপস কীভাবে তৈরি করবেন, সেটা জেনে নিন তাহলে।

কী কী উপকরণ লাগবে?

  • আলু বড় সাইজের- ২টি
  • বিট লবণ- ১/২ চা চামচ
  • মরিচের গুঁড়া- ১/২ চা চামচ
  • লবণ- ১ চা চামচ
  • টেস্টিং সল্ট- ১ চিমটি
  • তেল- ভাজার জন্য

কীভাবে বানাবেন মুচমুচে আলুর চিপস?

১) প্রথমে আলুর খোসা ছাড়িয়ে নিয়ে পাতলা পাতলা স্লাইস করে ( গোল শেইপ হবে ) কেটে নিন। ছুরি দিয়ে বা গ্রেটারের সাহায্যে কাটতে পারেন।

২) এবার ঠান্ডা পানির মধ্যে লবণ দিয়ে দিন ও কেটে রাখা আলুর স্লাইসগুলো ডুবিয়ে রাখুন ৫ মিনিটের জন্য।

৩) আলুর টুকরোগুলো কিচেন টিস্যুতে রেখে পানি ভালোভাবে শুকিয়ে নিতে হবে।


৪) অন্যদিকে একটি বড় প্যানে তেল গরম করুন। তেল ভালোভাবে গরম হলে আলুর চিপসগুলো ছেড়ে দিন।

৫) চুলার আঁচ মিডিয়ামে রেখে ভালোভাবে ভেজে তুলে নিন।

৬) এবার বিট লবণ, মরিচের গুঁড়া, টেস্টিং সল্ট এবং নরমাল লবণ নিয়ে একসাথে মিশিয়ে নিন এবং চিপসের উপর ছড়িয়ে দিন ভালোভাবে। প্রতিটা চিপসে যেন মসলার কোটিং হয়, সেটা খেয়াল রাখবেন।

ব্যস, ২০ মিনিটের মধ্যেই মজাদার মুচমুচে আলুর চিপস তৈরি হয়ে গেলো! চাইলে এতে চাট মসলাও যোগ করতে পারেন, এতে আরও ভালো লাগবে খেতে। এই রেসিপি ফলো করে একবার ট্রাই করেই দেখুন, আশা করি ভালো লাগবে। আজ তাহলে এই পর্যন্তই। আবারও চলে আসবো নতুন কোনো রেসিপি নিয়ে। সবাই ভালো থাকবেন।




Wednesday, 1 January 2025

মাছ বিরান

 

‘‘মাছ বিরান’’



যেভাবে মাছ বিরান করতেন ঠিক একই রকম করে মাছ বিরান করতে কে কে পারেন? গরম ধোয়া উঠা ভাতের সাথে এই রকম মাছ বিরান থাকলে কি আর কিছুর দরকার আছে! তাহলে আপনারাও শিখে নিন গ্রাম বাংলার খুব সাধারণ কিন্তু অতুলনীয় স্বাদের মাছ বিরানের রেসিপি।

মাছ বিরান তৈরির পদ্ধতি 

উপকরণ 

  • যেকোন মাছ- ১টি (পিস করে কাটা)
  • হলুদ গুঁড়া- ১ চা চামচ
  • মরিচ গুঁড়া- ১ চা চামচ
  • ধনিয়া গুঁড়া- ১ চা চামচ
  • জিরা গুঁড়া- ১ চা চামচ
  • পেঁয়াজ বাটা- ১ চা চামচ
  • রসুন বাটা-  ১ চা চামচ
  • লবণ- স্বাদমতো
  • লেবুর রস-  ১ চা চামচ
  • পেঁয়াজ কুঁচি- ১ কাপ
  • কাঁচামরিচ- কয়েকটা
  • টমেটো – ১টি

প্রস্তুত প্রণালী 

১) প্রথমে মাছের টুকরাগুলো হলুদ, মরিচ, ধনিয়া, জিরা গুঁড়া, পেঁয়াজ ও রসুন বাটা, লবণ, লেবুর রস দিয়ে মাখিয়ে রাখুন।

২) এবার প্যানে তেল দিয়ে তাতে মাছের টুকরাগুলোকে লাল আর মচমচে করে ভেজে তুলে রাখুন। 

৩) এবার একই প্যানে ১ কাপ পরিমাণ পেঁয়াজ কুঁচি, কয়েকটা কাঁচামরিচ আর টমেটো টুকরা দিয়ে একটু ভাজা ভাজা করে নিন।

৪) সবশেষে মাছের উপর ভাজা পেঁয়াজ ছড়িয়ে দিন।

হয়ে গেলে গরম ভাতের সাথে পরিবেশন করুন মজাদার মাছ বিরান।